ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছে রিনিতা। মেডিকেলের এই প্যারাময় জীবন তার আর ভাল লাগে না। দেখতে না দেখতে ছুটি গুলাও কেটে যায়। তবে এবার সে বড় একটা প্ল্যান নিয়ে এসেছে। বাসায় শুধু এবার অরিন আর অয়ন কে সময় দিবে। তারা যা যা বলে সব শুনবে। অরিন আর অয়ন তার ছোট ভাই বোন। মেডিকেলে ভর্তি হবার আগে কতই না মজা করত। কিন্তু পড়াশোনার চাপে এখন দূরত্ব টাই বেড়ে গেছে। আগেই নাইমকে বলে রাখছে এবার তোমার কোন খোঁজ নিব না। সারাটা সময় অরিন আর অয়ন কে দিব। তাতে সায় ও দেয় নাইম। তবে তার এমন নির্লিপ্ত সায়ে গা জ্বলে যায় রিনিতার। নাইম রিনিতার ভালোবাসার মানুষ। কতদিন হয়ে গেল তাদের পরিচয়ের। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এরপর ভালোবাসা।
এইতো......... আপু আপু... নাইম ভাইয়া তোমাকে শুভ সকাল জানাইসে। এই যে ম্যাসেজ। চোখ মুছতে মুছতে চোখ খুলে রিনিতা। আরে অয়ন পিচ্চিটা তার মোবাইল হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। ক্লাস সিক্সে পড়ে, এখনি কি পাকনা? আপুর মোবাইল না বলে ধরে? কিছু বলে না রিনিতা।
- আপু, নাইম ভাইয়া তোমার বয়ফ্রেন্ড? না? হি হি!!
- ওরে বাবা! এই পিচ্চি তুই এত কিছু জানলি কেমনে?
- হুম। জানি তো। আগেও যখন বাসায় আসছ তখন দেখসি তো। ভাইয়া তোমাকে এত এত ম্যাসেজ দেয়। তখনি বুঝছি।
- হুম। বয়ফ্রেন্ড। খুশি?
- আমি আম্মুকে বলে দিব।
- আরে আরে। এই চুপ। এটা বলার কি হইল রে? তোর ভাল বন্ধু আছে না? তেমনি নাইম ও আমার ভাল বন্ধু। বুঝলি?
- ও! আচ্ছা।। অয়ন কি বুঝছে সেটা সেই জানে। রাতে রিনিতা নাইমকে বলে এই জানো , অয়ন না তোমার সকালের ম্যাসেজ পড়ছে। কি পাকনা যে হইসে ভাইটা।
- তাই, মজা তো। আচ্ছা যাও কাল থেকে তোমাকে না জানিয়ে অয়নকে শুভ সকাল জানাবো।
- ভাল বুদ্ধি তো। হেসে দেয় রিনিতা। সাথে নাইম ও।
- আপু আজকে ভাইয়া তোমাকে গুড মর্নিং না জানিয়ে আমাকে জানালো যে?
--- ভয়ে ভয়ে বলে অয়ন। হাসি থামিয়ে রেখে রিনিতা বলে
– কি জানি? সেটা তো তুমি আর তোমার নাইম ভাইয়াই বলতে পারে। লজ্জা পেয়ে চলে যায় অয়ন। এভাবে বাসায় সময়গুলা খুব ভাল যাচ্ছিল রিনিতার। ৩ সপ্তাহের ছুটি। অয়ন আর অরিন কে নিয়ে মজাতেই যাচ্ছে সব।
- আপু তোমার কি মন খারাপ? নাইম ভাইয়ার সাথে ঝগড়া হইসে?
- যা তো। বিরক্ত করিস না। অয়ন ঠিকই বুঝে নেয় কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে। দুইদিন ধরে সকাল বেলা নাইম ভাইয়া ম্যাসেজ ও দিচ্ছে না।
কি হয়েছে তা ঠিক বুঝতে না পারলেও ভাইয়ার জন্য যে আপুর মন খারাপ ঠিকই বুঝতে পারে অয়ন। সারাটা বিকেল এমনই থাকে তার প্রিয় আপুটা। রাতে ঘুমানোর আগে সাহস করে একটা কাজ করে ফেলে অয়ন। রিনিতার মোবাইল থেকে নাইমকে একটা ম্যাসেজ পাঠিয়ে দেয় সে। ‘ আমার খুব মন খারাপ, সরি” এমনটা লেখে সে। ভয়ে ভয়ে ঘুমাতে যায় অয়ন, আপু না কি না কি বলে সেই ভয়ে। আজকে সে আপুর সাথেই ঘুমাবে। আম্মুর হুকুম। চুপচাপ চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান করে আছে সে। কিছুক্ষন পরে নাইমের ফোন। তাদের কথা গুলা শুনতে পায় অয়ন,
- আমিও সরি। ওই সময়ের ঝগড়ার জন্য। তোমার ম্যাসেজ দেখে খারপ লাগল। তোমার মন খারাপ করে দিসি তাই ।।
- আমার ম্যাসেজ? কখন?? আমি তো কিছু পাঠাই নি।
- মানে?? এইতো আধাঘন্টা আগে পাঠাইসো?
এরপরের কথা গুলা আর শুনা হয় না অয়নের। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যায় সে। আপু কি না কি বলে? যা বলার সকালেই না হয় বলল। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপুর হাসিমুখটা তো দেখতে পেল। এটাই বা কম কি?
[ লিখেছেন -কাজী ওয়ালীউল হাসান ]
আপনার নিজের লেখা গল্প পাঠাতে পারেন এই ইমেইল অ্যাড্রেসে- golpobd@mail.com